জেগে উঠুন আপন আলোয়..........

স্রষ্টার সুন্দরতম সৃষ্টি নারী

জান্নাত যাদের চরণতলে শোভা পায় সেই স্নেহময়ী মমতাময়ী নারীর মূল্যায়ন করে সাধ্য কার? আসমান-জমিনের শ্রেষ্ঠতম ও আদর্শতম মানুষ খাতিমুল আম্বিয়া হুজুরপাক যেখানে নারীর মূল্যায়নে এমন উচ্চতম রূপকে পদায়ন করেছেন সেখানে আমাদের শক্তি অতিশয় ক্ষুদ্র। জিন, ইনসান আর ফেরেশতাকুল যেসব মানুষ নিয়ে গৌরব করে তারাও সীমাহীন স্নেহ মায়া-মমতায় তিলে তিলে বড় ও মানুষ হয়েছেন এ নারীদের হাতে ও হৃদয়ে। নারী মা, নারী স্ত্রী, নারী বোন এবং নারী কন্যা হিসেবে মানব অস্তিত্বের কণায় কণায় ও শিরায় শিরায় অবস্থান নিয়ে বিরাজ করে তার কোনো তুলনাই কখনও হয় না। আমি কথাচ্ছলেই কেবল বলি না যে, মানব জাতি আল্লাহর খলিফা এতে কোনো প্রশ্ন নেই; কিন্তু মানব জাতির দুই অনিবার্য প্রতীক নর ও নারীর মাঝে খলিফা বা প্রতিনিধিত্বে এক নম্বর অবস্থানে নারী। বিশেষ করে মানব জাতিকে লা-মাকানি ও লাহুতি-ইয়াহুতি জগতের অনস্তিত্ব শূন্যতা থেকে এই নাসুতি জগতে (ধরাধাম) আনয়নে, প্রকাশে ও বিকাশে অনন্য, অনবদ্য ও একক ভূমিকা পালন করে নারী মমতাময়ী। এ বিশ্ব জগতে মানব সন্তানের প্রথম অভিযাত্রায় বিসমিল্লাহ বলে শুরু ও সূত্রপাত ঘটে জান্নাতের চেয়ে পরম আনন্দময় নারীগর্ভে। বেহেশতবাসী জান্নাতে গিয়ে ইসমে আজম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যা ইচ্ছা করবে, যা চাইবে তাই পাবে। তবে সেখানে ইচ্ছা করতে হবে, চাহিদা প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু নারীর গর্ভে মানব সন্তানকে ইচ্ছাও করতে হয় না, চাহিদাও জানাতে হয় না। তার অস্তিত্বই, তার আসমানি নিশানাই সেখানে জান্নাত অধিক মাতৃগর্ভে সুপার ইসমে আজমের কাজ করে। সন্তানকে ধারণ করে নারীর মন ও অস্তিত্ব থাকে আসমান-জমিনের বহু বহু ঊর্ধ্বে মাবুদ মাওলার রহমানি জগতে। নারী তাই তার গর্ভধারণের শত ধকল ও কষ্টকে পরমানন্দে তিলে তিলে হজম করতে থাকে। আবার জগতে পা দেয়ার পর থেকে মানব শিশু স্থান করে নেয় জান্নাতসম মায়ের কোলে। মায়ের বুকের শরাবুন তহুরা পান করতে করতে শিশু চোখ মেলে প্রথম দেখে কেবল মাকে। তখন তার কাছে মা ছাড়া সবই অজানা, তুচ্ছ ও মূল্যহীন। এভাবে মায়ের সুধা, মায়ের আদর ও মায়ের বুলি গিলে গিলে নর-নারী মানব প্রজন্ম বড় হতে থাকে, প্রকাশিত ও বিকশিত হতে থাকে দুনিয়ার সবখানে। এসব অতুলনীয় ভূমিকা পালন ও অবদান রাখায় নারীর স্থানই মুখ্য, প্রথম ও অদ্বিতীয়। এখানে পুরুষের স্থান অবশ্যই দ্বিতীয় ও পরোক্ষ পর্যায়ে। তাই জোর দিয়ে জোরগলায় বলি মানব জাতির উদ্গম, বিকাশ ও লালন-পালনে আল্লাহর পয়লা নম্বর খলিফা হলেন নারী, শুধু নারী। নারীর মূল্যায়নে আম্বিয়া কেরাম ও আউলিয়া কেরাম, মনীষীরা এবং সর্বোপরি শ্রেষ্ঠতম মানুষ আবদুহু ওয়া রাসূলুহু হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন এবং করেছেন তা আমাদের প্রতিদিনকার ও প্রতিক্ষণকার কথায় ও আচরণে থাকতে হবে। শুধু কোনো এক বিশেষ দিন ও ক্ষণ নারী দিবস, মা দিবস, স্ত্রী দিবস বা কন্যা দিবস পালন করেই আমরা মানুষ হতে পারি না, সভ্য হতে পারি না। জ্ঞানীজন এ কথাও বলেন, নারী হল আমলা আর পুরুষ হল কামলা, তাই নারীকে কামলা বানানোর ও পুরুষকে আমলা বানানোর মনগড়া বিচার বিশ্লেষণ ও আইন-কানুন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য দিতে পারে না। দয়াল-মাবুদ মাওলা পরিষ্কারভাবে তাই আসমানি ঘোষণা ও বাণীতে বলে দিয়েছেন, উস্কুন্ ইলাইহা। নারীর কাছে গিয়ে, হাজিরা দিয়ে সুখ-শান্তি লাভ করো! তাই হে মানব জাতি, আসুন নারীর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে সস্তা বুলি ছেড়ে মূল কথা ও আমলে মন দিই।

Popular Posts

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.