জেগে উঠুন আপন আলোয়..........

ত্যাগ ও সহানুভূতির বিরল দৃষ্টান্ত

পুণ্যাত্মা সাহাবারা ছিলেন নবী করিম সাঃ-এর পূতপবিত্র মহোত্তম চরিত্রের আধারতাঁর মহোত্তম জীবন চরিত্রের পূর্ণস্নাততাদের জীবনে প্রতিবিম্বিত হয়েছিল রাসূল সাঃ-এর ত্যাগ ও আত্মত্যাগের প্রতিটি অধ্যায়সুমহান জীবনাদর্শতারা আঁকড়ে ধরেছিলেন হুজুর সাঃ-এর মুখনিসৃত প্রতিটি অমীয় বাণী, কর্ম ও সুন্নাহআর তা ব্যবহারিক জীবনে পালন করেছে অক্ষরে অক্ষরে 
তারা ছিলেন পরস্পর হামদর্দী, সহানুভূতিশীল ও সমব্যথীনিজেরা জঠরজ্বালা নিবারণ না করে অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দিতেন হাসিমুখেনিজেরা ক্ষুধাপীড়িত থেকে শিশুদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে ঘুম পাড়িয়ে অতিথি সেবা ও মেহমানদারি করেছেন উদার মনেএকজনের দুঃখ-কষ্টে কেঁদে উঠত তাদের কোমল হৃদয়তারা তাকওয়া ও খোদাভীতি ত্যাগ ও কোরবানি ইনসাফ ও সাম্য সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতিহাসের সোনালি পাতায় রেখে গেছেন, যার ন্যূনতম তুলনা খঁুজে পাওয়া যাবে না কোনো জাতি ও ধর্মের ইতিহাসে 
সেসব পুণ্যাত্মা সাহাবার অন্যতম ছিলেন হজরত আবু বকর রাঃক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর জীবন ও সম্পদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল, আদর্শ নবী চরিত্র তার নিষ্কলুষ জীবনে কতটুকু প্রতিবিম্বিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভের জন্য একটি মাত্র ঘটনার উল্লেখই যথেষ্ট মনে করি 
হুজুর সাঃ-এর অনুপম আদর্শে স্নাত হজরত আবু বকর রাঃ ছিলেন মুসলমানদের খলিফাঅতুলনীয় আদর্শ খলিফাসে হিসেবে তার মহীয়সী সহধর্মিণী পারতেন দামি দামি পোশাক পরতেউন্নত খাবার উদরপুরে খেতেপারতেন আড়ম্বরপূর্ণ বিলাসপ্রিয় জীবন বেছে নিতেকারণ তিনি যে খলিফার স্ত্রীশাসকের স্ত্রীবর্তমান অবস্থা তো এমনই 
না, তিনি এমন করেননিতিনি বেছে নিয়েছেন অনাড়ম্বরপূর্ণ সাদাসিধে জীবনআহার করেছেন জীবনধারণ পরিমাণ খাবারঅল্পে তুষ্ট থেকেছেন আমৃতুøজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত 
কিন্তু মানুষের রুচি বৈচিত্র্যময়এক অবস্থার ওপর অনড় থাকা যায় নাথাকতে পারে নাএটা তার স্বভাববিরোধীতাই অভিরুচি হয় ভিন্ন কিছুরখলিফার স্ত্রীর একবার ইচ্ছা হলো, হালুয়া বানিয়ে সবাইকে মিষ্টিমুখ করাবেনসেজন্য বেশ কিছু দিন থেকেই তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেননিত্যদিনের আহার থেকে অল্প অল্প করে বাঁচিয়ে সামান্য পরিমাণ আটা ও মধু জোগাড় করলেনএভাবেই তৈরি হলো অনেক দিনের প্রতীক্ষিত হালুয়াপুণ্যবতী মহীয়সী সে হালুয়া মুখে না নিয়ে তার স্বাদ-বিস্বাদ আস্বাদন না করে পেশ করলেন খলিফার খেদমতেকিন্তু তিনি স্পর্শ না করে জানতে চাইলেন, কিভাবে তৈরি হলো এটাশান্তমনে সব শুনে তিনি বায়তুলমালকে নির্দেশ পাঠালেন, খলিফার বরাদ্দ এখন থেকে আরো কমিয়ে দেয়া হোককেননা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আরো কম হলেও আবু বকরের চলে যায়এই ছিল খলিফাতুল মুসলিমিনের অবস্থাদুনিয়ার প্রতি তার নিরাসক্তি ও নির্মোহতা 
হজরত আবু তালহা আনসারি রাঃ ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম গুণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারীতিনি ছিলেন অতিথিপরায়ণতার অতিথি সেবার ঘটনা ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেতবে এ কথা সত্য যে, সহমর্মিতার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন তা মানব সভ্যতার ইতিহাসে একান্তই বিরল 
হজরত আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাঃ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ আমি ক্ষুধার্ততিনি ঘরে খোঁজ নিয়ে জানলেন, আহারযোগ্য কিছুই সেখানে নেইতখন উপস্থিত সাহাবাদের লক্ষ করে ইরশাদ করলেন, ‘এমন কেউ কি আছে আজকের রাতটি এক ব্যক্তির মেজবানি করতে সক্ষমএ কথা শোনামাত্র আবু তালহা উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি প্রস্তুত আছিতারপর ঘরে গিয়ে স্ত্রীকে বললেন যা আছে উপস্থিত করো দ্বিধাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী বললেন, ঘরে শিশুদের খাবার ছাড়া কিছুই নেইআবু তালহা বললেন, ‘ভুলিয়ে ভালিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে দাওতিনি তাই করলেন 
খাবার উপস্থিত হলে আবু তালহা রাঃ মেহমানকে নিয়ে বসলেনএক ফাঁকে সলিতা উসকে দেয়ার নাম করে বাতি নিভিয়ে দেয়া হলোআর স্বামী-স্ত্রী উভয়েই হাত গুটিয়ে বসে রইলেনকিন্তু মেহমান ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন নাবরং তিনি পরমতৃপ্তিতে আহার করলেনসকালে আনসারি হুজুর সাঃ-এর খিদমতে হাজির হলেনতখন হুজুর সাঃ ইরশাদ করলেন, ‘আল্লাহপাক অমুক অমুকের আচরণে প্রীত হয়েছেনতিনি আরো ইরশাদ করলেন, এমনকি আল্লাহপাক হেসে দিয়েছেনএ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নাজিল হলো কুরআনের আয়াতযার অর্থ- নিজেদের কষ্ট থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে তারা নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়এই ছিল সাহাবা কেরামের ত্যাগ ও সহানুভূতির বিরল দৃষ্টান্ত
(সূরা হাশর-৯)

Popular Posts

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.