জেগে উঠুন আপন আলোয়..........

ওহুদ যুদ্ধ চলাকালীন কিছু ঈমানদিপ্ত কাহিনী

হুদ যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে এক জটিল ঘটনারাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তের মাঝে এই ওহুদ যুদ্ধ একটিসীরাতে ইবনে হিশাম থেকে শুরু করে সকল প্রাচীন সীরাত ও হাদীসের গ্রন্থগুলিতে ওহুদ যুদ্ধের কাহিনী খুব গুরুত্ব সহকারে বর্ণিত আছেআমি এখানে সীরাতে ইবনে হিসাম ও আল্লামা ইদ্রীস কান্ধলভী রহ এর লেখা সীরাতুল মোস্তফা সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ওহুদ যুদ্ধের কিছু ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করব

   কুরায়েশদের পাথরের আঘাতে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুখমন্ডল থেকে রক্ত পড়তে থাকে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছিলেন হে আল্লাহ আমার কওমকে ক্ষমা কর কেননা তারা জানে নাসাহাবী মালিক ইবনে সিনান রাঃ নিজের মুখ দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত রক্ত চুষে উনার মুখমন্ডল পরিস্কার করে দেনতখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন তোমাকে জাহান্নামের আগুন কখনই স্পর্শ করবে না

  কুরাইয়েশদের বিখ্যাত পালোয়ান ইবনে কুমাইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এত জোরে আঘাত করে যে বর্মের ২ টি লৌহ খন্ড উনার মাথার ভিতর ঢুকে যায়হযরত আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুখ থেকে লৌহ দন্ড গুলি বের করতে যেয়ে উনার নিজের দাঁত দিয়ে ধরে কামড়ে টান দেন এতে ঐ সাহাবীর ২ টা দাঁত ভেঙ্গে যায়তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে হাস্যজ্জোল দাঁত দিয়ে পুনরুত্থিত করবেনযখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাহাড়ের উপর উঠতে মনস্থ করলেন কিন্তু নিজের শারীরিক দূর্বলতার জন্য পাহাড়ের উপর উঠতে পারছিলেন না তখন তালহা রাঃ বসে পড়েন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পিঠে পা রেখে আরোহন করেনতখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন তালহা নিজের জন্য জান্নাত ওয়াজীব করে নিয়েছেকাফেরদের আক্রমন প্রতিহত করার সময় তালহা রাঃ হাতের সব আঙ্গুল গুলি কেটে যায় তখন তিনি অবলীলায় বলে উঠেন হাসান বা উত্তম হয়েছেতখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালহা কে বলেন তুমি যদি তখন হাসান না বলে বিসমিল্লাহ বলতে তাহলে ফেরেশতারা তোমাকে উঠিয়ে নিয়ে যেত এবং কাফেররা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতএমনকি ফেরেশতারা তোমাকে নিয়ে আসমানে প্রবেশ করতকায়স ইবনে হাযম রাঃ বলেন আমি তালহার ঐ হাত দেখেছি যা দিয়ে সে ওহুদ যুদ্ধে কাফেরদের আক্রমন প্রতিহত করেছে, তা ছিল সম্পূর্ণ পক্ষাঘাত গ্রস্থহযরত আবু বকর রাঃ বলেন ওহুদ যুদ্ধের দিন তালহার শরীরে ৭০ টির বেশি আমরা জঘম পেয়েছিঐ দিনের পুরাটাই ছিল তালহার জন্যরাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহুদ যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠলেই বলতেন যে ব্যক্তি শহীদকে জীবিত অবস্থায় পৃথিবীতে চলাফেরা করতে দেখতে চায় সে যেন তালহাকে দেখেকাফেররা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি বৃষ্টির মত তীর ছোড়া শুরু করে তখন সাহাবী আবু দুজানা রাঃ মানব বর্ম হিসাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে পড়েনকিন্তু এই চরম মূহুর্তেও ঐ সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি বেয়াদবী হবে ভেবে উনার পিঠ রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুখের সামনে না এনে উনার মুখ রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে রাখেন আর উনার পিঠ কাফেরদের সামনে দিয়ে কাফেরদের তীর ও বর্শার আঘাত সহ্য করে যাচ্ছিলেন। 

  সুবহানাল্লাহ দেখুন সাহাবীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মানের প্রতি কিরকম লক্ষ্য রাখতেনকাফেরদের তীর ও বর্শার আঘাতে সাহাবী আবু দুজানার পিঠ চালুনির মত হয়ে যায়উনি ঐখানেই শহীদ হয়ে যানঠিক এরকম ভাবে সাহাবী কাতাদা ইবনে নুমান রাঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রক্ষা করতে যেয়ে তার চোখে কাফেরদের তীর পড়ে উনার চোখের মনি বের হয়ে আসেঐ চোখের মনি সাহাবী কাতাদা রাঃ নিজ হাতে ধরে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে আসেনতখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার চোখের মনিটিকে চোখের যথাস্থানে রেখে দিলেনতৎক্ষনাৎ কাতাদা রাঃ এর চোখ আগের চেয়েও সম্পুর্ণ সুস্থ ও জ্যোতির্ময় হয়ে উঠেহযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাঃ ছিলেন দক্ষ তীরন্দাজউহুদের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক এক টি তীর সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাঃ এর হাতে তুলে দিতে থাকেন আর বলেন তোমার প্রতি আমার পিতা মাতা উৎসর্গ হোকহযরত আলী রাঃ বলেন সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস ছাড়া আর কারো জন্য আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে তার পিতামাতাকে উৎস র্গ করতে শুনেনি

                       [ তথ্যসূত্রঃ সীরাতে ইবনে হিসাম, সীরাতুল মোস্তফা সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর রাহিকুল মাখতিম, মেশকাত শরীফের ওহুদ যুদ্ধ অধায় ]

Popular Posts

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.