জাতীয় কবি চির তারুণ্যে কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতে যৌবনকে বয়সের ফ্রেমে
বেঁধে রাখা যায় না। তিনি অনেক বৃদ্ধের মাঝেও যেমন তারুণ্যের ঝলকানি
দেখেছেন তেমনি বয়সে তরুণ অনেকের মাঝে পেয়েছেন বার্ধক্যের জরা। আমাদের দেশের
নারীরা বয়সের তুলনায় মনের দিক থেকে বুড়িয়ে যান খুব দ্রুত। অনেকে ধরেই নেন
যে, মেনোপজ মানে যৌবনের যবনিকা পতন। এই আগে থেকে হেরে বসে থাকার মানসিকতাই
কিন্তু বুড়িয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। অথচ সামান্য চেষ্টাতেই এই মিডলাইফ
ক্রাইসিস হয়ে উঠতে পারে আপনার সেকেন্ড অ্যাডাল্টহুড, জীবনকে নতুন করে উপভোগ
করার সোনালি সময়। আর এ বিষয়টি নিয়েই আমাদের এবারের স্বাস্থ্যকথা বিভাগের
আয়োজন-
মেনোপজ : বার্ধক্য নয়
নানা পর্যায়ে বিভক্ত মেয়েদের জীবন
পিরিয়ড শুরুর সময় থেকেই হরমোনাল জাগলিংয়ের সূত্রপাত। বয়ঃসন্ধিতে একটি মেয়ের যে আইডেনটিটি খোঁজার শুরু, পরিণত বয়সে তা যথাযথ আকার নেয় বিভিন্ন সম্পর্কের প্রেক্ষিতে। নানা ভূমিকার চালচিত্রে বেড়ে ওঠা সেই মেয়েই বিষণ্ন হয়, অসহায় বোধ করে মধ্যবয়সের সঙ্কটে পড়ে। মেয়েদের জীবনের যাত্রাপথের এই টানাপোড়েনের অধ্যায়কেই পেরিমেনোপজাল ও মেনোপজাল পিরিয়ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঋতুনিবৃত্তির এই বিশেষ সময়ে চলতে থাকে নানারকম হরমোনাল পরিবর্তন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে শারীরিক অসুস্থতায় এবং মানসিক প্রতিক্রিয়ায়। একে স্টেজ অফ অফিসিয়াল এজিংও বলা যেতে পারে। সহজভাবে বলতে গেলে মেনোপজ মেয়েদের প্রজনন প্রকৃতির এবং বয়োবৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক পর্যায় যার প্রস্থতি শুরু হয় ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। পিরিয়ড অনিয়মিত হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে মেয়েদের ওভারি থেকে হরমোন নিঃসরণ একেবারে শূন্যে এসে ঠেকে। এই হরমোনগুলির মধ্যে রয়েছে মূলত ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং অন্য দু’একটি হরমোন। স্বাভাবিক ঋতুচক্র ঠিক রাখতে, গর্ভধারণে এবং ভ্যাজাইনা ও ইউটেরাসের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তাই এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবে এই স্বাভাবিক ঘটনাটি নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। বরং ভাবুন না সুইট সিক্সটিনের মতো ম্যাচিওর্ড ফর্টিও তো জীবনে একবারই আসবে। ষোলোর অস্থিরতা, কুড়ির ভুলভ্রান্তি, তিরিশের নানা ঝক্কি পেরিয়ে মধ্যবয়স ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থিত আপনার সামনে। নতুনভাবে শুরু করুন জীবনের সোনালী অধ্যায়। লাইফ বিগিনস অ্যাট ফর্টি।
মেনোপজের উপসর্গ
১. অনিয়মিত পিরিয়ড : কিছু উপসর্গ আছে যা পেরিনোপজাল পিরিয়ড থেকে শুরু হয়ে মেনোপজের সময় অবধি চলতে থাকে। অনিয়মিত পিরিয়ড তেমনই এক উপসর্গ। মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলে পরিবর্তন হয়। অতিরিক্ত কিংবা খুব কম বিৱডিং হতে থাকে, অনেক দনি ধরে হয় কিংবা সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ হয়, অসময়ে স্পটিং হতে পারে। টানা ১ বছর পিরিয়ড বন্ধ থাকলে মেনোপজের শুরু বলে ধরা যেতে পারে।
২. হটফ্লাশ : প্রায় ৭৫% ভাগ মহিলার ক্ষেত্রে এ সময়ে হটফ্লাশ এবং নাইট সোয়েটিং হয়ে থাকে। দিন বা রাতের যে কোনও সময়ে, যে কোনও অবস্থাতেই হটফ্লাশ হতে পারে। শুরু হয় মুখ, ঘাড় ও মাথায়। এর সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণত দেখা যায় প্রচুর ঘাম হয়, বিশেষত রাতের দিকে। একে বলে নাইট সোয়েটিং। যে সব মহিলার সার্জারি বা রেডিওথেরাপির দরুন আচমকাই ঋতুবন্ধ হয়ে যায়, তাদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ আরও ঘন ঘন এবং বেশি পরিমাণে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই উপসর্গ থাকে ১ বছরের বেশি এবং ২৫% মেয়েদের ক্ষেত্রে কখনও কখনও ৫ বছরেরও বেশি থেকে যেতে পারে। তা ছাড়া শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, খিটখিটেমি, আলসেমি আসে। অনিদ্রা বাড়ে এবং ক্রমাগত ক্লান্ত লাগে। ইস্ট্রোজেন যা ব্রেনের টেম্পারেচার নিয়ন্ত্রণের গ্ল্যান্ডকে প্রভাবিত করে তার ঘাটতির ফলেই হটফ্লাশ হয়। ঘাড়ে মুখে ঠাণ্ডা জল দিলে এবং ঠাণ্ডা জল খেলে আরাম লাগে।
মেনোপজ : বার্ধক্য নয়
নানা পর্যায়ে বিভক্ত মেয়েদের জীবন
পিরিয়ড শুরুর সময় থেকেই হরমোনাল জাগলিংয়ের সূত্রপাত। বয়ঃসন্ধিতে একটি মেয়ের যে আইডেনটিটি খোঁজার শুরু, পরিণত বয়সে তা যথাযথ আকার নেয় বিভিন্ন সম্পর্কের প্রেক্ষিতে। নানা ভূমিকার চালচিত্রে বেড়ে ওঠা সেই মেয়েই বিষণ্ন হয়, অসহায় বোধ করে মধ্যবয়সের সঙ্কটে পড়ে। মেয়েদের জীবনের যাত্রাপথের এই টানাপোড়েনের অধ্যায়কেই পেরিমেনোপজাল ও মেনোপজাল পিরিয়ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঋতুনিবৃত্তির এই বিশেষ সময়ে চলতে থাকে নানারকম হরমোনাল পরিবর্তন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে শারীরিক অসুস্থতায় এবং মানসিক প্রতিক্রিয়ায়। একে স্টেজ অফ অফিসিয়াল এজিংও বলা যেতে পারে। সহজভাবে বলতে গেলে মেনোপজ মেয়েদের প্রজনন প্রকৃতির এবং বয়োবৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক পর্যায় যার প্রস্থতি শুরু হয় ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। পিরিয়ড অনিয়মিত হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে মেয়েদের ওভারি থেকে হরমোন নিঃসরণ একেবারে শূন্যে এসে ঠেকে। এই হরমোনগুলির মধ্যে রয়েছে মূলত ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং অন্য দু’একটি হরমোন। স্বাভাবিক ঋতুচক্র ঠিক রাখতে, গর্ভধারণে এবং ভ্যাজাইনা ও ইউটেরাসের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তাই এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবে এই স্বাভাবিক ঘটনাটি নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। বরং ভাবুন না সুইট সিক্সটিনের মতো ম্যাচিওর্ড ফর্টিও তো জীবনে একবারই আসবে। ষোলোর অস্থিরতা, কুড়ির ভুলভ্রান্তি, তিরিশের নানা ঝক্কি পেরিয়ে মধ্যবয়স ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থিত আপনার সামনে। নতুনভাবে শুরু করুন জীবনের সোনালী অধ্যায়। লাইফ বিগিনস অ্যাট ফর্টি।
মেনোপজের উপসর্গ
১. অনিয়মিত পিরিয়ড : কিছু উপসর্গ আছে যা পেরিনোপজাল পিরিয়ড থেকে শুরু হয়ে মেনোপজের সময় অবধি চলতে থাকে। অনিয়মিত পিরিয়ড তেমনই এক উপসর্গ। মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলে পরিবর্তন হয়। অতিরিক্ত কিংবা খুব কম বিৱডিং হতে থাকে, অনেক দনি ধরে হয় কিংবা সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ হয়, অসময়ে স্পটিং হতে পারে। টানা ১ বছর পিরিয়ড বন্ধ থাকলে মেনোপজের শুরু বলে ধরা যেতে পারে।
২. হটফ্লাশ : প্রায় ৭৫% ভাগ মহিলার ক্ষেত্রে এ সময়ে হটফ্লাশ এবং নাইট সোয়েটিং হয়ে থাকে। দিন বা রাতের যে কোনও সময়ে, যে কোনও অবস্থাতেই হটফ্লাশ হতে পারে। শুরু হয় মুখ, ঘাড় ও মাথায়। এর সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণত দেখা যায় প্রচুর ঘাম হয়, বিশেষত রাতের দিকে। একে বলে নাইট সোয়েটিং। যে সব মহিলার সার্জারি বা রেডিওথেরাপির দরুন আচমকাই ঋতুবন্ধ হয়ে যায়, তাদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ আরও ঘন ঘন এবং বেশি পরিমাণে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই উপসর্গ থাকে ১ বছরের বেশি এবং ২৫% মেয়েদের ক্ষেত্রে কখনও কখনও ৫ বছরেরও বেশি থেকে যেতে পারে। তা ছাড়া শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, খিটখিটেমি, আলসেমি আসে। অনিদ্রা বাড়ে এবং ক্রমাগত ক্লান্ত লাগে। ইস্ট্রোজেন যা ব্রেনের টেম্পারেচার নিয়ন্ত্রণের গ্ল্যান্ডকে প্রভাবিত করে তার ঘাটতির ফলেই হটফ্লাশ হয়। ঘাড়ে মুখে ঠাণ্ডা জল দিলে এবং ঠাণ্ডা জল খেলে আরাম লাগে।