ধূমপান ছাড়তে অনেকে অনেক চেষ্টাই করে থাকেন।
কোন কোন সময় চিকিৎসকরা ওষুধ ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন। তবে ওষুধ ছাড়া
আকুপাংচার বা হিপনোসিস থেরাপির মাধ্যমেও এ অভ্যাস ছাড়া যায় বলে
জানিয়েছেন গবেষকরা। কিন্তু এ পদ্ধতি দুটি সত্যিকার অর্থে কেমন কার্যকর এবং প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে কতটা ভাল সে সম্পর্কে এখনো অনেক প্রশ্ন আছে।
তবে গবেষকরা সংশ্লিষ্ট ১৪ টি আন্তর্জাতিক গবেষণা পর্যালোচনা করে এ সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রমাণ পেয়েছেন।
কানাডার ম্যাকগ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মেহদি তাহিরি জানান, যারা ধূমপান ছাড়তে চায় তারা প্রথমে প্রচলিত মানসম্মত পদ্ধতিগুলোই বেছে নেবে। যেমন: নিকোটিন-রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, ওষুধ ব্যবহার, আচরণগত পরামর্শ নেওয়া প্রভৃতি।
তবে কেউ কেউ ওষুধ ব্যবহারে ততটা আগ্রহী না। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত মানসম্মত পদ্ধতিগুলো কার্যকরও হয় না।
সেক্ষেত্রেই (আকুপাংচার ও হিপনোসিস) বিকল্প পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া যায় এবং তা কাজেও আসতে পারে বলে জানান তাহিরি।
যেসব ধূমপায়ী আকুপাংচার করেছে তাদের ছয় মাস থেকে এক বছর পর পুরোপুরি ধূমপানমুক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে তিনগুণ বেশি।
ঠিক একইভাবে হিপনোসিস থেরাপির ক্ষেত্রেও অন্যদের তুলনায় ধূমপায়ীর ধুমপানমুক্ত হওয়ার হার বেশি দেখা গেছে গবেষণায়। গবেষণা পর্যালোচনাটি প্রকাশ করেছে ‘আমেরিকান জার্নাল অব মেডিসিন’ নামক সামিয়কী।
তবে গবেষকরা বলছেন, সব গবেষণায় এ ধরনের চিকিৎসায় সফলতার হার একইরকম দেখা যয়নি। যদিও সামগ্রিকভাবে বিকল্প এ চিকিৎসায় ধূমপায়ীদের উপকৃত হওয়ারই লক্ষণ দেখা গেছে।
২০০৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫৮ জন ধূমপায়ীকে কয়েকবার লেজার আকুপাংচার করানোর পর তাদের ৫৫ শতাংশ ছয় মাসের মধ্যে এ অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছে। আর যারা এই চিকিৎসা নেয়নি তাদের ক্ষেত্রে এ হার ৪ শতাংশ।
কিন্তু এর আগের বছর ২০০৭ সালে তাইওয়ানে এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের কানের চারপাশে সূচ দিয়ে করা আকুপাংচার তেমন ফলদায়ক হয়নি।
এ আকুপাংচারে মাত্র ৯ শতাংশ ধূমপায়ী ৬ মাস পর ধূমপান ছাড়তে পেরেছে। আর যারা এ চিকিৎসা নেয়নি তাদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, হিপনোসিস থেরাপির ক্ষেত্রেও দুই গবেষণায় দেখা গেছে একই অসামঞ্জস্য। একটি গবেষণায় হিপনোসিস থেরাপির বদৌলতে ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ ধূমপায়ী ৬ মাস থেকে ১ বছর পর এ অভ্যাস ছেড়ে দিতে পেরেছে। তবে অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, এই একই চিকিৎসায় ফল হয়েছে কম