জেগে উঠুন আপন আলোয়..........

ডায়াবেটিস কী?

Photo: ডায়াবেটিস কী?
ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। মানব দেহের ইনসুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা অপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এইভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ -
সম্প্রতী যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় – 
১. অনেকের ধারণা চিনি বেশি খাওয়া ডায়াবেটিস বা বহুমূত্রের জন্য ক্ষতিকর। এই কথাটি আসলে সত্যি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস হয় জেনেটিক ও লাইল স্টাইলগত কারণে। তবে তারা এটি স্বীকার করেছেন যে, অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে শরীরের ওজন বাড়ে। আর শরীরের ওজন বাড়ার সাথে ডায়াবেটিসের যোগসূত্র রয়েছে।
২. আবার অনেকের মতে, চিকন মানুষের ডায়াবেটিস হয় না। ডায়াবেটিস শুধুমাত্র মোটা স্বাস্থ্যের অধিকারী লোকদের হয়। এই ধারণাটিও সম্পূর্ণ ভুল। ডায়াবেটিস চিকন, মোটা যেকারোরই হতে পারে। মোটা স্বাস্থ্যের অধিকারী লোকদের ডায়াবেটিস – ২ এর অধিক ঝুকি রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক, নৃতাত্বিক সম্পর্ক ও বয়সের কারণেও ডায়াবেটিস হয়। 
৩. কেউ কেউ বলেন ডায়াবেটিস তেমন কোনো মারাত্মক রোগ নয়। অনেক ক্ষেত্রে শারিরীক পরিশ্রমের অভাব, ওজন বেশি হয়ে যাওয়া, বয়স, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারনেও ডায়বেটিস হতে পারে যেমন স্টেরয়েট হরমোন, থাইয়াজাইট ডাইরোটিক্স তাই বংশগত কারন না থাকলেও ওজন বেশি হওয়ার কারনে ডায়বেটিস হতে পারে কারন ওজন বেশি হলে ইনসুলের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ
> ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
> খুব বেশী পিপাসা লাগা
> বেশী ক্ষুধা পাওয়া
> যথেষ্ট খাওয়া সত্বেও ওজন কমে যাওয়া
> ক্লান্তি বা দূর্বলতা বোধ করা
> ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া
> খোশ-পাঁচড়া, ফোঁড়া জাতীয় চর্মরোগ দেখা দেওয়া
> চোখে কম দেখা
 তবে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এ সব লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে, তখন সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাতেই ডায়াবেটিস ধরা পড়ে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শরীর দুর্বল হলে করণীয় 
>ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
 ভিটামিনের অভাব আছে কিনা, রক্ত শূন্যতা আছে কিনা, ইলোকট্রোলইট এর অসমাঞ্জস্যতা আছে কিনা তা দেখতে হবে এবং সে অনুসারে চিকিৎসা করলে দূর্বলতা কেটে যাবে। 
 ভিটামিন বা স্যালাইন খেলে ডায়াবেটিস বাড়বেও না কমবেও না। তাই ভিটামিন খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া প্রচুর শাক সব্জি খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে এবং প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। যেমন পাতা জাতিয় শাকসব্জি এবং টক ফল। এছাড়া পানি জাতিয় সব্জিতে সুগার থাকে না এবং এতে প্রচুর ভিটামিন থাকে। যেমন লাউ, কুমরা, পটল, করলা, চিচিঙ্গা এগুলো খেলে ভিটামিনের অভাব পুরোন হয় এবং ডায়াবেটিস এর জন্যও ভালো।
 আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশন সহজ ভাবে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করার জন্য এক প্রতিবেদনে বলেছেন, প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম ( দ্রুত হাঁটা – ১মিনিটে ১২০ কদম, সাতার কাটা, সাইকেল চালানো, দৌড়ানো)।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাঁতার এবং সাইকেল ছাড়া নিয়মিত ৩০-৬০ মিনিট হাঁটলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩৫-৪০ শতাংশ কমে যায়।

সচেতনতা - 
 খাদ্য গ্রহণে অনেকে যেমন উদাসীন তেমনি অনেকে আবার অতি সচেতন। রোগীর বয়স, ব্লাড সুগারের মাত্রা, শারীরিক গঠন, কী ধরনের ওষুধ নিচ্ছেন সব দিক পূর্ণাঙ্গ বিবেচনা করে একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে প্রকৃত খাদ্যতালিকা তৈরি করে নিন। পুষ্টিবিদ প্রয়োজনমতো ২৪ ঘণ্টার সুন্দর খাদ্যতালিকা তৈরি করে দেবে, যা অনুসরণ করলে শরীর দুর্বল হবে না, ব্লাড সুগারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
 ডায়বেটিক রোগে রক্তনালী মোটা হয়ে যায়, ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে যথাযথ অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে না। ফলে ক্ষতস্থান সহজে ভালো হতে চায় না। সে কারণেই নরম জুতাসহ সব কিছুতে নজর রাখতে হবে যেন কোথাও আঘাত না লাগে। বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করাতে হবে।
 দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শরীরের সব কোষকে ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীল করে আর অতিরিক্ত ক্যালরিকে বার্ন করায়, ফলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
 ডায়াবেটিক রোগীর কিডনি ও হার্ট-এর জটিলতার আশঙ্কা বেশি, রক্তের এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কোলেস্টেরলকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
 দীর্ঘ সময় একস্থানে বসে না থেকে যথাসম্ভব কায়িক পরিশ্রমের মধ্যে থাকতে হবে। ধূমপানমুক্ত থাকার বিকল্প নেই।
 নিয়মিত ব্লাড সুগার, বছরে অন্তত একবার এইচবিএ ওয়ানসি, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, প্রসাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা করান, ব্লাড প্রেসারও দেখতে হবে নিয়মিত।

তথ্যসূত্রে: প্রথম-আলো ব্লগডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। মানব দেহের ইনসুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা অপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এইভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ -
সম্প্রতী যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় –
১. অনেকের ধারণা চিনি বেশি খাওয়া ডায়াবেটিস বা বহুমূত্রের জন্য ক্ষতিকর। এই কথাটি আসলে সত্যি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস হয় জেনেটিক ও লাইল স্টাইলগত কারণে। তবে তারা এটি স্বীকার করেছেন যে, অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে শরীরের ওজন বাড়ে। আর শরীরের ওজন বাড়ার সাথে ডায়াবেটিসের যোগসূত্র রয়েছে।
২. আবার অনেকের মতে, চিকন মানুষের ডায়াবেটিস হয় না। ডায়াবেটিস শুধুমাত্র মোটা স্বাস্থ্যের অধিকারী লোকদের হয়। এই ধারণাটিও সম্পূর্ণ ভুল। ডায়াবেটিস চিকন, মোটা যেকারোরই হতে পারে। মোটা স্বাস্থ্যের অধিকারী লোকদের ডায়াবেটিস – ২ এর অধিক ঝুকি রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক, নৃতাত্বিক সম্পর্ক ও বয়সের কারণেও ডায়াবেটিস হয়।
৩. কেউ কেউ বলেন ডায়াবেটিস তেমন কোনো মারাত্মক রোগ নয়। অনেক ক্ষেত্রে শারিরীক পরিশ্রমের অভাব, ওজন বেশি হয়ে যাওয়া, বয়স, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারনেও ডায়বেটিস হতে পারে যেমন স্টেরয়েট হরমোন, থাইয়াজাইট ডাইরোটিক্স তাই বংশগত কারন না থাকলেও ওজন বেশি হওয়ার কারনে ডায়বেটিস হতে পারে কারন ওজন বেশি হলে ইনসুলের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ
> ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
> খুব বেশী পিপাসা লাগা
> বেশী ক্ষুধা পাওয়া
> যথেষ্ট খাওয়া সত্বেও ওজন কমে যাওয়া
> ক্লান্তি বা দূর্বলতা বোধ করা
> ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া
> খোশ-পাঁচড়া, ফোঁড়া জাতীয় চর্মরোগ দেখা দেওয়া
> চোখে কম দেখা
তবে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এ সব লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে, তখন সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাতেই ডায়াবেটিস ধরা পড়ে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শরীর দুর্বল হলে করণীয়
>ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
ভিটামিনের অভাব আছে কিনা, রক্ত শূন্যতা আছে কিনা, ইলোকট্রোলইট এর অসমাঞ্জস্যতা আছে কিনা তা দেখতে হবে এবং সে অনুসারে চিকিৎসা করলে দূর্বলতা কেটে যাবে।
ভিটামিন বা স্যালাইন খেলে ডায়াবেটিস বাড়বেও না কমবেও না। তাই ভিটামিন খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া প্রচুর শাক সব্জি খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে এবং প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। যেমন পাতা জাতিয় শাকসব্জি এবং টক ফল। এছাড়া পানি জাতিয় সব্জিতে সুগার থাকে না এবং এতে প্রচুর ভিটামিন থাকে। যেমন লাউ, কুমরা, পটল, করলা, চিচিঙ্গা এগুলো খেলে ভিটামিনের অভাব পুরোন হয় এবং ডায়াবেটিস এর জন্যও ভালো।
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশন সহজ ভাবে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করার জন্য এক প্রতিবেদনে বলেছেন, প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম ( দ্রুত হাঁটা – ১মিনিটে ১২০ কদম, সাতার কাটা, সাইকেল চালানো, দৌড়ানো)।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাঁতার এবং সাইকেল ছাড়া নিয়মিত ৩০-৬০ মিনিট হাঁটলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩৫-৪০ শতাংশ কমে যায়।

সচেতনতা -
খাদ্য গ্রহণে অনেকে যেমন উদাসীন তেমনি অনেকে আবার অতি সচেতন। রোগীর বয়স, ব্লাড সুগারের মাত্রা, শারীরিক গঠন, কী ধরনের ওষুধ নিচ্ছেন সব দিক পূর্ণাঙ্গ বিবেচনা করে একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে প্রকৃত খাদ্যতালিকা তৈরি করে নিন। পুষ্টিবিদ প্রয়োজনমতো ২৪ ঘণ্টার সুন্দর খাদ্যতালিকা তৈরি করে দেবে, যা অনুসরণ করলে শরীর দুর্বল হবে না, ব্লাড সুগারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ডায়বেটিক রোগে রক্তনালী মোটা হয়ে যায়, ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে যথাযথ অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে না। ফলে ক্ষতস্থান সহজে ভালো হতে চায় না। সে কারণেই নরম জুতাসহ সব কিছুতে নজর রাখতে হবে যেন কোথাও আঘাত না লাগে। বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করাতে হবে।
দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শরীরের সব কোষকে ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীল করে আর অতিরিক্ত ক্যালরিকে বার্ন করায়, ফলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ডায়াবেটিক রোগীর কিডনি ও হার্ট-এর জটিলতার আশঙ্কা বেশি, রক্তের এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কোলেস্টেরলকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
দীর্ঘ সময় একস্থানে বসে না থেকে যথাসম্ভব কায়িক পরিশ্রমের মধ্যে থাকতে হবে। ধূমপানমুক্ত থাকার বিকল্প নেই।
নিয়মিত ব্লাড সুগার, বছরে অন্তত একবার এইচবিএ ওয়ানসি, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, প্রসাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা করান, ব্লাড প্রেসারও দেখতে হবে নিয়মিত।

Popular Posts

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.