টমাস আলভা এডিসন (ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৪৭-অক্টোবর
১৮, ১৯৩১) ছিলেন মার্কিন উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামোফোন, ভিডিও
ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতিসহ বহু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন, যা
বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।.
এডিসনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী আবিষ্কার হলো বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার। আকাশের বিদ্যুতকে মানুষ তখন ব্যাটারিতে আটকাতে পেরেছিল। তারপরও কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে তা থেকে আলো পাওয়া সম্ভব। এডিসন নিজ মেধা ও প্রচেষ্টায় সেই অলৌকিকতাকে বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন। ১৮৭৯ সালে অক্টোবর মাসে তিনি স্থানীয় পার্ক বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করে সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন।
.
আধুনিক যুগের সিনেমার আবিষ্কারকও ছিলেন তিনি। ১৮৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল নিউইয়র্কে হাজার হাজার দর্শকের সামনে এডিসন তার 'কাইনেটোস্টোপ' নামক যন্ত্রের সাহায্যে চলমান ছবি দেখিয়েছিলেন। শিল্প জগতে জন্ম দিয়েছেন নতুন একটি যুগের। তিনি সিমেন্ট, আধুনিক সহজে বহনযোগ্য ব্যাটারি, রাবার ইত্যাদি আবিষ্কার করেছেন। পেটেন্ট অফিস থেকে জানা যায় এডিসন তার সারাজীবনে মোট ১৪০০ যন্ত্রের জন্য পেটেন্ট নিয়েছেন। এ থেকেই তার প্রতিভার বিস্তৃতির পরিমাপ আন্দাজ করা যায়। কোনো একটি নতুন আইডিয়া মাথায় এলে তিনি তার পিছনে নিষ্ঠার সাথে লেগে থাকতেন। অনবরত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সাফল্যকে স্পর্শ করতে চাইতেন।
.
হেনরি ফোর্ড সে সময় মোটর গাড়ি আবিষ্কার করেছেন। এই গাড়িতে সহজে পরিবহনযোগ্য নিরাপদ ব্যাটারির প্রয়োজন। এজন্য তিনি বন্ধু এডিসনকে অনুরোধ করেন। এডিসন নতুন ধরনের ব্যাটারি আবিষ্কারের নেশায় সব কাজ ছেড়ে এদিকে মনোযোগ দিলেন। একটি হালকা, টেকসই, সহজে বহনযোগ্য, নিরাপদ ব্যাটারির জন্য তিনি ৫০ হাজার বার পরীক্ষা করেন। তারপর আবিষ্কার করেন।
.
তার প্রথম জ্বলা বৈদ্যুতিক বাতিটির ফিলামেন্ট ছিল সুতার তৈরি। এটি একনাগাড়ে ৫০ ঘণ্টা জ্বলেছিল। এরপর যথার্থ উপাদানের জন্য তিনি হাতের কাছে যা পাওয়া গেছে তাকেই কাজে লাগানোর চেষ্ট করেছিলেন। টিস্যু কাগজ, ড্রয়িং কাগজ, আলকাতরা আর ভুষাকালি মাখানো সুতো, মাছ ধরার সুতো, কাঠের টুকরো, নারকেলের ছিবড়ে, প্রদীপের সলতে কিছুই বাদ দেননি। বৈদ্যুতিক বাতিতে ফিলমেন্ট হিসেবে জ্বলার জন্য একটি যথার্থ উপাদানের খোঁজে তিনি কয়েক বছর ধরে নিরলস অন্বেষণ চালিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর সুমাত্রার বাঁশের আঁশকে কাজে লাগাতে পেরেছেন। পরবর্তীতে অবশ্য ট্যাংস্টেন নামক ধাতু দিয়ে ফিলামেন্ট তৈরি করে তিনি বেশ সাফল্য পেয়েছিলেন।
.
মহান বিজ্ঞানী এডিসন মারা যান ১৯৩১ সালের ১৮ অক্টোবর। সমাপ্তি ঘটে একটি নিরলস প্রচেষ্টায় গাঁথা কর্মবহুল জীবনের। পৃথিবীতে রেখে যান অসংখ্য আবিষ্কার যা তাকে চিরকাল স্মরণীয় করে রাখবে। পৃথিবীর অগ্রগতিতে তার অবদান বেঁচে থাকবে মানুষের বয়সে।