জেগে উঠুন আপন আলোয়..........

মেছতা হলে করণীয়


untitled-9 copy_26297একখানা সুন্দর মুখ যদি মেছতায় ঢাকা থাকে তবে তা যতই সুন্দর হোক না কেন তাকে সুন্দর বলা যায় না। বিশেষ করে তা যদি মহিলাদের ক্ষেত্রে হয় তবে তো কথাই নেই। সরাসরি ছুটে আসা ডাক্তারের কাছে তাদের সবারই প্রায় একই প্রশ্ন? এটা ভালো হবে তো ডাক্তার সাহেব? মুখের কালো দাগ মানেই মেছতা নয়। তাই সব কালো দাগই যে ভালো হবে এটাও বলা সঙ্গত নয়। তবে অধিকাংশ মেছতার চিকিৎসায়ই পজেটিভ ফলাফল পাওয়া যায়।
মেছতার কারণ
অনেক ক্ষেত্রেই মেছতার সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, তবে হরমোনের ব্যাপার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত। জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা, ইস্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, গর্ভাবস্থা, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি মেচতার অন্যতম কারণ।
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি যদিও মেচতার একটি অন্যতম কারণ তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলেই মেছতা হবে এমন কোনো কথা নেই। আবার জীবনে একদিনও এই বড়ি খাননি অথচ তাদের মুখেও মেচতার দাগ হতে দেখা গেছে। তবে একথা সত্যি মেচতার দাগ আছে এমন কেউ যদি চিকিৎসা করাচ্ছেন অথচ জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া বন্ধ করেননি তার ক্ষেত্রে এর থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।
মেছতার প্রকারভেদ
একে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:
* এপিডারমাল : যা ত্বকের বহিস্তরের উপস্তিরে বিদ্যমান থাকে, যা চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা সম্ভব।
* ডারমাল : যা ত্বকের বহিস্তরের নিচের স্তরে বিদ্যমান থাকে। এক্ষেত্রে চিকিৎসায় খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়।
* মিশ্রিত অর্থাৎ : যা ত্বকের অন্তঃস্তক ও বহিঃস্তকজুড়ে বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের মেছতায় অনেক সময় ফল ভালো আসে না।
মেছতা কোন স্থানে হয়
সাধারণত গালের ওপরের অংশেই এটা বেশি হয়ে থাকে। তবে চোয়ালে, নাকের উপরে ও কপালেও হতে দেখা যায়। মেছতা ত্বকের যে কোনো স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত তা Woods Lamp-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে ধারণা পাওয়া যায়।
* এক ধরনের মেছতা চিকিৎসায় সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে যায়।
* আর এক ধরনের মেছতা আছে, যা চিকিৎসা দিলে প্রায়ই সেরে যায়, তবে কিছুটা কালো ভাব থেকে যায়।
* আর এক ধরনের মেছতা আছে যার সংখ্যা খুবই কম, তবে এক্ষেত্রে চিকিৎসায় তেমন ফল আসে না।
মেছতার গতানুগতিক চিকিৎসা
এতদিন ধরে প্রায় সব চর্মরোগ বিশেষজ্ঞই হাইড্রোকুইননকেই মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে মনে করত এবং যে কেউই মেছতার ক্ষেত্রে এটিকেই লিখে থাকত। এর সঙ্গে ট্রেটিনয়েন (Tretenoin) এবং মৃদু স্টেরয়েডের সংযুক্ত ব্যবহারে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
বর্তমান ও আধুনিক চিকিৎসা
হাইড্রোকুইনন বর্তমানেও ব্যবহার করা হয় এবং এর সঙ্গে স্টেরয়েড মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। ক্ষেত্রবিশেষে ট্রেটিনয়েনও খুবই উপকারী। তবে বর্তমানে kojic acid ও Azelic Acid এর ব্যবহারও শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এতে বেশ সুফলও পাওয়া যাচ্ছে।
তবে একটি ব্যাপার খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার। এসব ওষুধ ত্বকের piament বা রঞ্জক পদার্থ ধ্বংস করে। কিন্তু ত্বকের কালো দাগ যদি সূর্যের আলোক রশ্মির সংস্পর্শে আসে তবে সেক্ষেত্রে চিকিৎসা করেও তেমন সন্তোষজনক ফল সম্ভব না-ও হতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি অর্থাৎ চিকিৎসা চলাকালীন অবশ্যই দিনের বেলায় বাইরে চলাচলের সময় সানবস্নক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে বাইরে যাওয়ার অন্তত আধাঘণ্টা আগে এই সানবস্নক মুখে মেখে নিতে হবে। মেছতার চিকিৎসায় সর্বশেষ ও কার্যকর সংযোজন হচ্ছে মাইক্রোডার্মোঅ্যাব্রেশন (Microdermoabrasion)। একটি যন্ত্রের সাহায্যে ত্বকের সূক্ষ্ম ও সর্বোপরি স্তরটি তুলে ফেলা হয়। এটি একটি যন্ত্রের সাহায্যে করা হয় এবং এতে কোনো রকম ব্যথা পাওয়া যায় না। এই অবস্থায় মেছতার ওষুধ প্রয়োগ করলে ওষুধের কার্যকারিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় এবং মেছতার ক্ষেত্রে আরও দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যায়। কেমিক্যাল পিলিং (Chemical peeling) অর্থাৎ কিছু Chemicals প্রয়োগ করেও মেছতার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে দাগ হতে পারে বিধায় যারা এ বিষয়ে সিদ্ধ হস্তের নয় তাদের দিয়ে এটি না করানোই ভালো।
মেছতার চিকিৎসায় লেজারের ব্যবহার নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও সফলতার দিক দিয়ে তা আশার আলো জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বললেও হয়তো ভুল বলা হবে না। এক কথায় মেছতার ক্ষেত্রে লেজারের ব্যবহার এখনও সীমিতই রয়ে গেছে।

Popular Posts

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.