জেগে উঠুন আপন আলোয়..........

মাইগ্রেন ও মাথাব্যথা কমাতে কিছু তথ্য

অনেকেই মাইগ্রেন ও সাধারন মাথাব্যথাকে এক করে ভাবেন। সাধারন দৃষ্টিকোনে দুটোই একই রোগ মনে হলেও এদের উৎস ও উপসর্গ আলাদা। অনেকেই দীর্ঘ দিন মাথাব্যথা থাকলে তাকে মাইগ্রেন ভাবেন। অবশ্য মাইগ্রেন এমন একটি রোগ যা দীর্ঘদিন রোগীকে অসম্ভব যন্ত্রণা দিয়ে থাকে। মাথাব্যথা নিরাময় যোগ্য রোগ অপরদিকে মাইগ্রেন স্থায়ী ভাবে নিরাময় করা যায়না। সাময়িক ব্যথার পরিমান কমান যায়। চলুন আমরা মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন কি, কেন হয়, এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া জেনে নি।

মাইগ্রেনঃ হঠাৎ অসহ্য মাথাব্যথার অন্য নাম মাইগ্রেন। দৈনন্দিন জীবনে যেসব অসুখ মুহূর্তের মধ্যে সুখ কেড়ে নিতে পারে তার মধ্যে অন্যতম মাথাব্যথা। এই যন্ত্রণা খুব সহজেই আপনার কর্মচাঞ্চল্য কিংবা উচ্ছলতাকে বাধাগ্রস্ত করে মুহূর্তের মধ্যে স্থবির করে ফেলতে পারে। মাইগ্রেন চিরতরে নির্মূল করা যায় না, চিকিৎসায় এর প্রকোপ কমিয়ে বা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এটি বংশগত হতে পারে। এটি পুরুষ অপেক্ষা মহিলাদের বেশি হয়। দুশ্চিন্তা ও মাসিকের সময় এটি বেশি হয়। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য এই রোগকে ত্বরান্বিত করে। মাইগ্রেন সাধারণত মাথার এক পাশের একটি স্থান থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে সেই পাশের পুরো স্থানেই বিস্তৃত হয়। প্রচন্ড মাথাব্যথার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম এবং বমির ভাব থাকতে পারে। সাধারণত রক্তে সেরোটোনিন অথবা ফাইভ এইচটির মাত্রা পরিবর্তিত হলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনীগুলো আছে সেগুলো মাইগ্রেন শুরুর প্রারম্ভে ফুলে যায় তাই মাথাব্যথা তীব্রতা ব্যাপক হয়। মাথাব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি দুই/তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এটি রোগীকে দুর্বল এবং বিপর্যস্ত করে ফেলে। মাইগ্রেনের কয়েকটি ধরন আছে। তার একটি ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন। ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেনের শুরুটা অধিকাংশ সময়েই রোগী বুঝতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হয়। রোগী চোখের সামনে আলোর ঝলকানি, চোখে সর্ষে ফুল দেখে। হাত-পা, মুখের চারপাশে ঝিনঝিনে অনুভূতি হয়। শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অবশভাব হতে পারে। এরপর শুরু হয় মাথাব্যথা, যা মাথার একপাশের একটি স্থান থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে সেই পাশের পুরো স্থানেই বিস্তৃত হয়। প্রচণ্ড দপদপে ব্যথা রোগীকে কাহিল করে ফেলে। রোগীর প্রচুর ঘাম হয়। বমি কিংবা বমি ভাব হয়। আলো এবং শব্দ একদম সহ্য করতে পারে না। কথা বলতেও অনিচ্ছা প্রকাশ করে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। চুপচাপ অন্ধকার ঘরে থাকতেই রোগী বেশি পছন্দ করে।
মাইগ্রেনের চিকিৎসাঃ আগেই বলেছি মাইগ্রেন একেবারে নিরাময় সম্ভব নয় তবে বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে মাইগ্রেন কমিয়ে আনা যায়। আজকাল মাইগ্রেনের নানারকম চিকিৎসা আছে। চিকিৎসার প্রক্রিয়া দুটি। প্রথমত তাৎক্ষণিক মাথাব্যথা কমানো এবং দ্বিতীয়ত মাথাব্যথার প্রকোপ কমিয়ে আনা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা। উভয় লক্ষ্য অর্জনে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। ওষুধও বিভিন্ন ধরনের আছে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে সঠিক পদ্ধতি গ্রহন করা উচিত

Popular Posts

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.